গণতন্ত্রের লড়াই ও বর্তমানের বৈপরীত্য
সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের দাবি করা নেতাদের আচরণ এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কারণ ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ দখলের পর এখন উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতেও প্রশাসক বসানোর তোড়জোড় চলছে। তাই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দলীয় লোক বসানোকে তিনি গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে মনে করেন। এটি যেন কেবল বিরোধী দলে থাকাকালীন একটি স্লোগান মাত্র।
![]() |
| আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া |
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর দখলদারিত্বের শঙ্কা
সরকার এখন ইউনিয়ন পরিষদ এবং ওয়ার্ড পর্যায়েও দলীয় প্রশাসক বসানোর নীল নকশা করছে। কারণ একের পর এক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচনের পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর হয়ে পড়ছে। আসিফ মাহমুদ মনে করেন, বিএনপি সম্ভবত কোনো স্তরই বাকি রাখবে না। এই দখলদারিত্বের রাজনীতি তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। তাই জনগণের সরাসরি ভোটের পরিবর্তে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে করে স্থানীয় উন্নয়নের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নই প্রধান হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই এই প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো ভেঙে পড়বে।
রাজনৈতিক দ্বৈতনীতি ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন
গণতন্ত্র কি কেবল বিরোধী দলে থাকলেই মানায়, নাকি সরকারেও তার চর্চা হওয়া উচিত? কারণ বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে কেবল দখলের মানসিকতাই ফুটে উঠছে বলে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন যে, মির্জা ফখরুল সাহেবরা যখন বিরোধী দলে ছিলেন তখন গণতন্ত্রের কথা খুব মিষ্টি লাগত। কিন্তু আজ সরকারে এসে তারা কেবলই দখলের নেশায় মত্ত হয়েছেন। তাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে এই আচরণ সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। রাজনীতির এই দ্বৈতনীতি দেশের মানুষের কাছে এখন পরিষ্কার হয়ে উঠছে। তারা চায় একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা যেখানে ভোটাধিকার সংরক্ষিত থাকবে।
