ড. খলিলুর রহমানকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে বিএনপির একটি বড় রাজনৈতিক ভুল বা 'ব্লান্ডার' হিসেবে অভিহিত করেছেন ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। কারণ নির্বাচনের ঠিক পরেই একজন উপদেষ্টাকে সরাসরি মন্ত্রী বানানোয় নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপিকে এখন জাতির সামনে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বক্তব্য হাজির করতে হবে। তাই তিনি মনে করেন, এই নিয়োগের ফলে নির্বাচনকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী।
![]() |
| ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা |
এনসিপি উপদেষ্টাদের পদত্যাগ বনাম বিএনপির সিদ্ধান্ত
নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষতা রক্ষায় এনসিপির দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছিলেন যাতে কোনো স্বার্থের সংঘাত না ঘটে। কারণ তারা চেয়েছিলেন নির্বাচন যেন কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয় এবং প্রশাসনের ওপর কোনো প্রভাব না পড়ে। কিন্তু বিএনপি সেই পথে না হেঁটে একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টাকে সরাসরি মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দিয়েছে। ব্যারিস্টার মোল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন উপদেষ্টা যদি নির্বাচনের পর মন্ত্রী হন, তবে নির্বাচনের আগে তিনি কতটা নিরপেক্ষ ছিলেন? তাই এই বৈপরীত্য বিএনপির রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
গোপন আঁতাত ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
ড. খলিলকে মন্ত্রী করার বিষয়টি নির্বাচনের আগেই নির্ধারিত ছিল কিনা, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা মনে করেন, নির্বাচনের পূর্বেই নিশ্চয়ই তার সঙ্গে বড় কোনো পদের বিষয়ে দরকষাকষি বা কথা হয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে তিনি কি তার পদের প্রভাব খাটিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে প্রশাসনকে প্রভাবিত করেননি? এই প্রশ্নটি এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাই নির্বাচনের শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে হলে এই ধরনের নিয়োগের নেপথ্য কারণ পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
প্রশাসন সাজানো ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয়
পুরো প্রশাসন ব্যবস্থাকে কি কেবল বিএনপিকে জেতানোর জন্যই ঢেলে সাজানো হয়েছিল—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ব্যারিস্টার মোল্লা। কারণ ড. খলিলের মতো ব্যক্তিদের মন্ত্রী বানানো প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে বড় কোনো স্বার্থ কাজ করছিল। তিনি প্রশ্ন করেছেন, কারা এই সাজানোর পেছনে ছিল এবং কোন উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়েছিল? যেহেতু নির্বাচনকে বিতর্কহীন রাখার দাবি ছিল সবার, তাই এই ধরনের কর্মকাণ্ড সেই দাবিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। এখন বিএনপির উচিত হবে এই বিতর্কিত নিয়োগের বিষয়ে জনগণের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।
