আল উদেইদ ও বাহরাইন ঘাঁটিতে অস্থিরতা
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল উদেইদ থেকে ইতিমধ্যে কয়েক শ সেনা চলে গেছেন। কারণ সেখানে প্রায় ১০ হাজার সেনার অবস্থান ইরানকে সহজেই প্রলুব্ধ করতে পারে। একইভাবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয় থেকেও সেনা কমানো হচ্ছে। যেহেতু এই ঘাঁটিগুলো পারস্য উপসাগরের খুব কাছে, তাই এগুলো ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার নাগালে রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জনবলকে এখন আরও নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে।
সিরিয়া ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ
সিরিয়ায় মোতায়েন থাকা প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনাও এখন ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারণ আল-জাজিরার তথ্যমতে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই এই প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো সামরিক অভিযান চালায়, তবে পাল্টা আঘাত আসবেই। তাই মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি এখন তেহরানের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধের দামামা বাজার আগেই নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে চাইছে পেন্টাগন।
সম্ভাব্য সংঘাত ও বিশ্লেষকদের অভিমত
মার্কিন এই পিছু হটাকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের যুদ্ধের আগাম সতর্কতা হিসেবে দেখছেন। কারণ কোনো দেশ সাধারণত বড় হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই নিজেদের সম্পদ সুরক্ষিত করে। যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এনে আকাশপথ বা সমুদ্রসীমা থেকে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে। যেহেতু ইরান এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তি, তাই মুখোমুখি সংঘর্ষে মার্কিন প্রাণহানি এড়ানোই এখন মূল লক্ষ্য। ওয়াশিংটন এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের পরবর্তী চাল নির্ধারণ করছে।
