সরওয়ার আলমের পুনর্নিয়োগ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব হিসেবে মো. সরওয়ার আলমের প্রত্যাবর্তন অনেক জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। সচিব পদমর্যাদায় এই নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ ইতিপূর্বে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে বঙ্গভবনের প্রশাসনিক কাঠামোকে তারা শক্তিশালী করতে চায়। রাষ্ট্রপতির প্রধান মুখপাত্র হিসেবে সরওয়ার আলমের ফেরা তাই কেবল একটি সাধারণ পদায়ন নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তার নামান্তর।
সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার আভাস
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই নিয়োগ রাষ্ট্রপতির পদকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল। প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মোস্তফা ফিরোজের মতে, নতুন সরকার চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং নিষ্ক্রিয় রাখতে পারত। যেহেতু তারা সেটি করেনি, তাই বোঝা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতিকে সহসা অপসারণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি ও সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষার প্রতি সরকার অধিক মনোযোগী। শাসনতান্ত্রিক শূন্যতা এড়াতে এই পদক্ষেপ একটি ঢাল হিসেবে কাজ করছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও বিএনপির অবস্থান
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ভাগ্য নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে বিএনপির ভূমিকা এখন অত্যন্ত স্পষ্ট। রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি জানিয়েছেন যে বিএনপির সদিচ্ছার ওপরই তার পদে থাকা বা না থাকা নির্ভর করছে। প্রেসসচিবের এই পুনর্নিয়োগ ইঙ্গিত দেয় যে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর ব্যাপারে বিএনপির আগের সেই কঠোর অবস্থান এখন আর নেই। বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রধান দলগুলো রাষ্ট্রপতিকে পদে রেখেই সামনে এগোতে চায়। বর্তমান এই প্রশাসনিক সাজসজ্জা তাই একটি দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
