আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কারণ আফগান বাহিনী সম্প্রতি পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও বর্তমান অবস্থা
পাকিস্তান গত রবিবার আফগান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল। সুতরাং এই নতুন আক্রমণকে সেই হামলার সরাসরি জবাব হিসেবে দেখছে তালেবান সরকার। নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বৃহস্পতিবার থেকে ভারী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বরং এই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে কারণ দুই পক্ষই অনড় অবস্থানে রয়েছে।
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোর একটি বিবৃতিতে এই সংঘাতের কথা জানিয়েছে। তারা বলেছে যে পাকিস্তানি বাহিনীর উসকানি আর সহ্য করা হবে না। তাই তারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে একযোগে গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডুরান্ড লাইন ও ঐতিহাসিক বিরোধ
ডুরান্ড লাইন বরাবর প্রায় ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের পুরনো বিবাদ রয়েছে। যেহেতু আফগানিস্তান এই সীমান্তকে কখনোই মন থেকে মেনে নেয়নি, তাই সেখানে প্রায়ই ঝগড়া বাঁধে। বরং ব্রিটিশ আমলের এই সীমানা নির্ধারণই আজকের সব অস্থিরতার মূল কারণ।
উসকানির অভিযোগ: তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে (টুইটার) জানিয়েছেন যে পাকিস্তান ক্রমাগত সীমান্ত লঙ্ঘন করছে।
বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি: আফগানিস্তানের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের আগের হামলায় নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ মারা গেছেন।
পাকিস্তানের দাবি: তবে পাকিস্তান দাবি করেছিল যে তারা কেবল সত্তর জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে খতম করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিণতির শঙ্কা
এই সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। কারণ প্রতিবেশী দুই দেশের এই বৈরিতা পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মহল এখন শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। যদিও আফগান সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তারা স্পষ্ট করেছে যে কোনো প্রকার আগ্রাসনকে আর ছাড় দেওয়া হবে না।
