যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দুই শক্তি: ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বর্তমানে এক ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে দুই দফায় আলোচনা হলেও কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আসেনি। বরং কূটনৈতিক পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সামরিক সংঘাত এখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় দেশই তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় অঞ্চলটিতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সিবিএস নিউজের চাঞ্চল্যকর তথ্য: প্রস্তুত মার্কিন সামরিক বাহিনী
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা দেশটিকে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রেখেছেন। তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে কারণ এটি সরাসরি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হোয়াইট হাউজে জরুরি বৈঠক: সিচুয়েশন রুমে রুদ্ধদ্বার আলোচনা
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বৈঠকে অংশ নিয়ে সামরিক প্রস্তুতির আদ্যোপান্ত পর্যালোচনা করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্প এখনো হামলার চূড়ান্ত আদেশ দেননি। সামরিক কমান্ডারেরা প্রস্তুত থাকলেও কমান্ডারের ইন চিফের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বাহিনী।
সিদ্ধান্তহীনতার কারণ: পাল্টা আঘাত ও আঞ্চলিক পরিণতির ভয়
হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়ার পেছনে হোয়াইট হাউজ অত্যন্ত সতর্কভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, এই আলোচনার বিষয়টি অত্যন্ত ‘পরিবর্তনশীল ও চলমান’। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভাবছে যে, হামলা চালালে ইরান ঠিক কী ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া এই যুদ্ধ শুরু হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, সেই আশঙ্কাই ট্রাম্প প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলছে।
