রমজানের শিক্ষা ও নির্বাচনের পর আত্মসমালোচনার আহ্বান
রাজধানীর উত্তরায় আজ বর্ণাঢ্য আয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর রুকন সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তরাস্থ 'সীশেল রেস্টুরেন্টে' আজ বুধবার বিকেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রুকনদের সক্রিয় রাখা দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দিকনির্দেশনা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা। কারণ তিনি দলের বর্তমান কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর সেক্রেটারি ডঃ রেজাউল করিম এবং উত্তরা পূর্ব জোন পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। তারা ইসলামের সুমহান আদর্শ ও ত্যাগের মহিমা ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম জোন সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলমও বিশেষ বক্তব্য রাখেন। তাই সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরা পূর্ব থানা আমীর মাহফুজুর রহমান। সেক্রেটারি আতিক হাসান রুবেল ও স্থানীয় অন্য নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সাংগঠনিক আত্মসমালোচনা ও রুকনদের ভূমিকা
উত্তরা পূর্ব থানার সকল পুরুষ ও মহিলা রুকন এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। কারণ রুকনরাই জামায়াতের কাঠামোগত শক্তির প্রধান উৎস বলে বিবেচিত। বক্তারা প্রধানত রমজানের মাহাত্ম্য ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধি নিয়ে কথা বলেন। বরং বিগত সাধারণ নির্বাচনের পর দলের অবস্থান নিয়ে গভীর আত্মসমালোচনা করা হয়। কারণ যেকোনো বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে নিজেদের ভুলত্রুটি সংশোধন জরুরি। তাই ভবিষ্যতে আন্দোলন ও জনসেবায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এই মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
দোয়া ও ইফতার মাহফিল
ইফতারের ঠিক আগে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। কারণ মাহফিলের এই অংশটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও আবেগপূর্ণ। রুকনরা যেন ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে প্রতিকূলতা জয় করতে পারেন, সেই প্রার্থনা করা হয়। তাই মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলে মিলে একত্রে ইফতার করেন। ইফতারের পর সংগঠনের কাজকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বেগবান করার আহ্বান জানানো হয়।
