ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৬: বাংলাদেশে উগ্রবাদের উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত আলোচনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের একাংশ থেকে এমন কঠোর মন্তব্য উঠে এসেছে যে, দেশে উগ্রবাদের অস্তিত্ব একটি পরিকল্পিত ‘নাটক’ মাত্র। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের প্রেসক্রিপশনে এই ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরি করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, তথাকথিত উগ্রবাদের যে চিত্র জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা আসলে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যম এবং নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সহায়তা নিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে করে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তিগুলোকে বিতর্কিত করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী দলগুলোকে ধারাবাহিকভাবে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বা ‘উগ্রবাদী’ তকমা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তা কেবল একটি রাজনৈতিক চক্রান্তেরই অংশ। তাদের যুক্তি হলো, দেশের মূলধারার ইসলামি দলগুলো সবসময়ই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলে এসেছে, যা দেশের প্রচলিত সমাজব্যবস্থা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়।
একাধিক বিশ্লেষক মনে করেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ‘উগ্রবাদের জুজু’ দেখানো হয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপের একটি পথ প্রশস্ত করেছে তা নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নেও এক ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বর্তমানে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের অভিমত হলো, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে অন্যের প্রেসক্রিপশনে কোনো কাল্পনিক উগ্রবাদের নাটক সাজানো দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই আগামীতে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বাইরের কোনো শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়িত হওয়া রোধ করতে দেশপ্রেমিক শক্তিগুলোকে আরও বেশি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
