দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাতকে কেন্দ্র করে গত তিন দিনে তিনজনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, কার্যালয়ে নির্যাতন ও অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা সারাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার ওপর মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ অনুসন্ধানে জানা যায়, আজ নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে রাজু আহমেদ নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাতের প্রত্যক্ষ হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। এর আগের দিন গতকাল ময়মনসিংহে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে; সেখানকার একটি বিএনপি কার্যালয়ে নৃশংস নির্যাতনের মুখোমুখি হতে থাকা নিজ নাতিকে উদ্ধার করতে যান নবী হোসেন নামে এক বৃদ্ধ। সেখানে তিনিও দলীয় নেতাকর্মীদের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এরও একদিন আগে রাজধানীর কাফরুল এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হন ইউসুফ নামের এক কর্মী। স্থানীয় কাফরুল স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হাফিজ দলের অভ্যন্তরীণ নেতা বাবুকে হত্যা করতে গেলে গুলিবর্ষণ বা হামলার ঘটনায় কর্মী ইউসুফ নিহত হন।
পরপর এসব সংঘাত ও রক্তপাতের ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীলতা নিয়ে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজে চরম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সর্বস্তরের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্থবিরতা সাধারণ মানুষকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইসলামি নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি হলো মানুষের জান-মালের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। রাজনীতি যখন জনসেবার পথ ছেড়ে সহিংসতা ও রক্তপাতের দিকে ধাবিত হয়, তখন তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গভীর বিপর্যয় ডেকে আনে। দেশের সচেতন জনগণ এই অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

