ব্রেকিং নিউজ
লোডিং হচ্ছে...

রংপুরে জিলা স্কুলের শিক্ষক ও তাঁর পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা: পুলিশের হাতে গ্রেফতার দুই মাদকাসক্ত ঘাতক

বিশেষ প্রতিনিধি, নতুন সূর্য: রংপুরের জিলা স্কুলের এক হিন্দু শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত মূল দুই ঘাতককে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মাদকসেবনে বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই মর্মান্তিক ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সংঘটিত হয়।

রংপুরে জিলা স্কুলের শিক্ষক ও তাঁর পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা: পুলিশের হাতে গ্রেফতার দুই মাদকাসক্ত ঘাতক

সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, রংপুরের জিলা স্কুলের ওই শিক্ষকের বাসার ছাদে বসে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস নামের দুই তরুণ ইয়াবা সেবন করছিল। বিষয়টি শিক্ষকের নজরে এলে তিনি তাদের ছাদ থেকে চলে যেতে বলেন এবং মাদকসেবনের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা শিক্ষকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা সঙ্গে থাকা গামছা শিক্ষকের গলায় পেঁচিয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

ছাদে কোলাহলের শব্দ শুনে শিক্ষকের স্ত্রী সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করলে ঘাতকেরা সিঁড়িতেই তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং একইভাবে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। সিঁড়িতে ধস্তাধস্তি ও চিৎকার শুনে শিক্ষকের কনিষ্ঠা কন্যা এগিয়ে এলে ঘাতকেরা তাকেও রেহাই দেয়নি; সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘাতকদ্বয় ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের অবুঝ শিশু সন্তানকেও হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরপরই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তাৎক্ষণিক ও জোরদার অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত দুই ঘাতক—মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা সম্পর্কে মামাতো ভাই এবং তারা দুজনই চরম মাদকাসক্ত। এদের মধ্যে একজন স্থানীয় একটি স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিল।

তথ্যপ্রমাণ ও প্রাথমিক তদন্তে এটি স্পষ্ট যে, একটি পরিবারের চারজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যার এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে মাদকাসক্তি ও অপরাধ প্রবণতা থেকে উদ্ভূত একটি বিচ্ছিন্ন নৃশংস অপরাধ। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশুভ কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা সামাজিক উস্কানি ও গুজব ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

শেয়ার করুন:

নামাজের সময় (ঢাকা)
লোড হচ্ছে...